06/06/2026
সত্যি বলতে, যখন আমি কেকের বিজনেস শুরু করতে চেয়েছিলাম তখন বাসার কেউই খুব একটা রাজি ছিল না। এমনকি আবিরও প্রথমে বলত,
"তুমি কি পারবে? তুমি তো কোথাও কাজ শেখোনি। আর বাউফলে তো আগেই দুই-তিনজন কেক বানাচ্ছে। আমাদের কাছ থেকে কে অর্ডার করবে? আমাদের তো কেউ চিনেও না!"
তখন আমি শুধু একটা কথাই বলেছিলাম—
"চেষ্টা করে দেখতে তো ক্ষতি নেই!"
বরিশালে পড়াশোনা করার সময় মাস শেষে খুব কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়ে দারাজ থেকে কেক বানানোর জন্য কিছু ছোটখাটো জিনিস অর্ডার করেছিলাম। পরে আমার বড় পিসি কিছু টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে কিনেছিলাম আমার প্রথম হ্যান্ড বিটার, ক্রিম, কেক বোর্ড আর বক্স।
আমার ফেসবুক পেইজটাও আবিরই খুলে দিয়েছিল। পেইজের নামটাও আমরা দুজন মিলে বেলস পার্কের একটি বেঞ্চে বসে ঠিক করেছিলাম। ❤️
এরপর বাউফলে আসার পর আবিরের এক বন্ধুর মাধ্যমে আমার প্রথম অর্ডার আসে। সেই কেকটা যে কতটা ভয়ে ভয়ে বানিয়েছিলাম, এখন মনে পড়লে হাসি পায়!
ধীরে ধীরে আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া আর সমর্থনে আমার ছোট্ট পেইজটা আজ এই পর্যন্ত এসেছে।
আর আমার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় অবদান যার, তিনি হলেন Abir Saha । ❤️
আজও নিজের কাজের পাশাপাশি আমার ক্লায়েন্টদের ফোন ধরা, পার্সেল সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখা, এমনকি অনেক সময় পেইজের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার কাজটাও সে দায়িত্ব নিয়ে করে🤍।
ফার্মাসিস্ট থেকে বেকিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথমে পরিবার রাজি না থাকলেও, কিছুদিন পর সবাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
এত কথা বলার কারণ একটাই—
ঈদের সময় আমার পুরনো হ্যান্ড বিটারটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল,অনেক গুলো কেক এর অর্ডার ও ক্যান্সেল করেছিলাম যার কারনে আমি তাদের কাছে দুঃখিত😢।আর আজ আমি নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে নতুন একটি হ্যান্ড বিটার কিনেছি। ❤️
বিশ্বাস করুন, এই আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। নিজের কষ্টের উপার্জনের টাকা দিয়ে কিছু কিনতে পারার অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম।
আপনাদের সকলের কাছে আমার জন্য এবং আমার পেইজের জন্য দোয়া/আশীর্বাদ চাই। যেন ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে পারি এবং আমার সব স্বপ্ন নিজের পরিশ্রমের টাকায় পূরণ করতে পারি। 🤲✨
ধন্যবাদ আমার পাশে থাকার জন্য। ❤️
— Cake Treat Bauphal ♥️