01/09/2025
প্রতিটি পুরুষের একজন করে প্রেমিকা থাকা উচিত।
কারণ প্রেমিকা মানেই শুধু ভালোবাসার মানুষ নয়; প্রেমিকা মানে এমন এক আত্মা, যার কাছে পুরুষ তার সবচেয়ে বড় ভঙ্গুরতাকেও নির্ভয়ে সমর্পণ করতে পারে। সমাজের কাছে সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন, প্রেমিকার কাছে সে হয়ে ওঠে নিখাদ, দুর্বল, একেবারে মানুষ।
প্রেমিকা থাকা মানে—রাতের পর রাত গল্প করে ক্লান্ত না হওয়া। ছোট ছোট কথার ভেতরে অজস্র নিঃশব্দ স্বস্তি খুঁজে পাওয়া। একটি দিনের শেষে যখন পৃথিবী অবসাদে ভরে যায়, তখন একটুখানি "আমি আছি" শব্দই যেন সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে ওঠে।
প্রেমিকা থাকা মানে—একসাথে হাঁটার নীরবতা ভাগ করে নেওয়া। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় একটি ছাতা ভাগাভাগি করা, অথবা কফির টেবিলে কিছু না বলেও সব বলা হয়ে যাওয়া। এই টুকরো টুকরো মুহূর্তগুলোই পুরুষকে মনে করিয়ে দেয়, সে একা নয়, তার জীবনে কেউ একজন আছে যে তাকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ করে।
কিন্তু প্রেমিকা শুধু হাসি আর সান্ত্বনার নাম নয়। প্রেমিকা অভিমানও করে। কখনো সে নীরব হয়ে যায়, কখনো কথার আঘাতে কাঁপিয়ে তোলে। অথচ এই অভিমানেই পুরুষ টের পায়, সে কতটা বাঁধা এই সম্পর্কের সঙ্গে। প্রেমিকার চোখের জল তাকে দুর্বল করে, আবার সেই একই চোখের হাসি তাকে জয়ী করে তোলে।
আর প্রেমিকা থাকা মানে—একটি শরীর নয়, একটি আত্মার সঙ্গে মিলন। তার আলিঙ্গনে পুরুষ ভুলে যায় পৃথিবীর সব ভিড়। তার ঠোঁটের একটুখানি স্পর্শে যে আগুন জ্বলে ওঠে, তা শুধু কামনা নয়, সেই আগুনে থাকে আশ্রয়ের উষ্ণতা, থাকে বেঁচে থাকার তীব্র তাগিদ।
প্রেমিকা থাকা মানে—একজন পুরুষের ভেতরের মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখা।
প্রেমিকা ছাড়া পুরুষ হয়তো বেঁচে থাকে, কিন্তু সে আর পূর্ণ হয়ে ওঠে না।
🖊️রুদ্র চৌধুরী