17/03/2026
#অনিচ্ছাকৃত #বিয়ে পর্ব:৯
লেখক: #আবু #তালহা
ঘরের ভেতর যেন হঠাৎ করে সবকিছু থেমে গেছে।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার চোখে রাগ, কষ্ট আর অভিমান—সবকিছু একসাথে মিশে আছে।
তালহা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে কোনো কথা নেই।
মায়া একবার তালহার দিকে, একবার সেই মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে।
মেয়েটা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
— তুমি চুপ করে আছো কেন, তালহা?
— উত্তর দাও… তুমি কি সত্যিই অন্য কাউকে বিয়ে করেছো?
তালহা গভীর শ্বাস নিল।
— নীলা… তুমি হঠাৎ এখানে কেন?
মায়ার বুকটা কেঁপে উঠল।
নীলা…!
তাহলে এই মেয়েটার নাম নীলা… আর সে তালহাকে নাম ধরে ডাকছে!
নীলা হেসে উঠল—একটা তিক্ত হাসি।
— কেন এসেছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ না…
— গুরুত্বপূর্ণ হলো, তুমি আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করলে কিভাবে?
মায়ার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।
সে ধীরে ধীরে বলল—
— উনি কে…?
তালহা কিছু বলার আগেই নীলা বলল—
— আমি?
— আমি সেই মেয়ে… যাকে তালহা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এই কথাটা যেন বাজের মতো আঘাত করল মায়ার মনে।
মায়ার চোখে পানি চলে এলো।
তালহা তাড়াতাড়ি বলল—
— মায়া, তুমি যা ভাবছো তেমন কিছু না—
— তাহলে কি?
মায়ার কণ্ঠ কাঁপছে।
তালহা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর ধীরে বলল—
— হ্যাঁ… আমি নীলাকে ভালোবাসতাম।
এই কথাটা শুনে মায়ার বুকটা ভেঙে গেল।
ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল।
নীলা চোখ মুছে বলল—
— “ভালোবাসতাম?”
— তাহলে এখন আর ভালোবাসো না?
তালহা চুপ।
মায়া আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।
— আমি… আমি একটু বাইরে যাচ্ছি।
তালহা এগিয়ে এসে বলল—
— মায়া, প্লিজ—
— না!
মায়া কাঁদতে কাঁদতে বলল—
— আমাকে একটু একা থাকতে দিন।
সে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ছাদের এক কোণায় গিয়ে মায়া থেমে গেল।
তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে থামছেই না।
“আমি তো জানতাম না…
আমি তো কিছুই জানতাম না…”
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠ—
— মায়া…
তালহা।
মায়া ফিরে তাকাল না।
— তুমি এখানে কেন এসেছো?
তালহা ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এল।
— তোমাকে বুঝানোর জন্য।
মায়া তিক্ত হেসে বলল—
— কি বুঝাবেন?
— যে আপনি অন্য কাউকে ভালোবাসতেন?
তালহা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
— হ্যাঁ… আমি নীলাকে ভালোবাসতাম।
— কিন্তু এখন…
মায়া ঘুরে তাকাল।
— কিন্তু এখন কি?
তালহা মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
— এখন আমার সবকিছু বদলে গেছে।
মায়া অবাক।
— বদলে গেছে?
তালহা ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এসে বলল—
— আমি জানি না কিভাবে…
— কিন্তু এই কয়েকদিনে তুমি আমার জীবনে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছো… যেটা আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।
মায়ার বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হলো।
— আপনি কি বলছেন…?
তালহা মায়ার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল—
— আমি বলছি… আমি তোমাকে হারাতে চাই না।
মায়ার চোখ বড় হয়ে গেল।
— কিন্তু নীলা…?
তালহা গভীরভাবে বলল—
— নীলা আমার অতীত…
— আর তুমি… তুমি আমার বর্তমান।
এই কথাটা শুনে মায়ার চোখ আবার ভিজে গেল।
তালহা ধীরে বলল—
— আমি জানি তুমি আমাকে এখনো বিশ্বাস করো না…
— কিন্তু আমি প্রমাণ করব… আমি শুধু তোমার।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
হঠাৎ হালকা বাতাস বইতে লাগল। মায়ার চুল উড়ে মুখে এসে পড়ল।
তালহা ধীরে তার চুল সরিয়ে দিল।
দুজনের চোখ একে অপরের চোখে আটকে গেল।
সময় যেন থেমে গেল।
মায়া ধীরে বলল—
— যদি আবার আমাকে কষ্ট দেন…?
তালহা খুব শান্ত গলায় বলল—
— তাহলে আমি নিজেকেও ক্ষমা করব না।
মায়ার ঠোঁটে হালকা কাঁপন।
তালহা আরও কাছে এসে ধীরে বলল—
— একটা সুযোগ দিবে আমাকে?
মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল…
তারপর খুব আস্তে মাথা নেড়ে বলল—
— হুম…
তালহার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই নিচে থেকে নীলার কণ্ঠ ভেসে এল—
— তালহা! আমি যাচ্ছি…
— কিন্তু মনে রেখো… আমি এত সহজে হাল ছাড়বো না!
এই কথাটা আবার নতুন ঝড়ের ইঙ্গিত দিল।
মায়া ভয় পেয়ে তালহার দিকে তাকাল।
তালহা দৃঢ় কণ্ঠে বলল—
— এবার আমি কাউকে আমাদের মাঝে আসতে দিব না।
মায়া ধীরে ধীরে তার দিকে তাকিয়ে রইল…
কিন্তু তার মনে এখনো একটা ভয়—
এই ভালবাসা কি সত্যিই টিকে থাকবে…?
নাকি আবারও ভেঙে যাবে…?
চলবে…