07/05/2026
এক ফাঁকিবাজ ছেলে প্রতিদিন ক্লাসে লেইট করে। একদিন অনেক দেরী করে ক্লাসে আসলো, ক্লাস শেষ হয়ে যায় যায় অবস্থায়। শিক্ষক তখন তাকে ব্যঙ্গ করে বললো,
"You are too early for the next class".
আমাদের বিফওয়ালাটা আমাদের আহলান এ্যাগ্রোর একটা এক্সটেনশন এবং এক্সপেরিমেন্টাল প্রোজেক্ট। আহলান এ্যাগ্রোতে আমরা আমাদের নিজস্ব দেশী ষাড় গরু নিরাপদ খাবারে লালন করে মাংস বিক্রি করতাম। মাংস বিক্রি করতে যেয়েই ভাবলাম, গরুটা আমরা রান্না করে বিক্রির ব্যবস্থা করি না কেনো। সেখান থেকেই বিফওয়ালার যাত্রা শুরু।
রেস্টুরেন্ট হিসেবে বিফওয়ালার লোকেশন অনেক ভেতরে, চলবে কিনা আমাদের নিজেদেরই সন্দেহ ছিলো। এতোটুকু আশা ছিলো, খাবার ভালো হলে মানুষ কত ভেতরে যেয়ে খেয়ে আসে। ইলিশ খেতে মাওয়া চলে যায়, গরুর মাংস খেতে খুলনায় চলে যায়, গাজিপুরে যায়, আমাদের বসিলায় আসতে পারবে না কেনো।
একারণে লোকেশন বা ইন্টেরিয়রের চেয়ে আমাদের মূল ফোকাস ছিলো খাবারে মান ও ভ্যারিয়েশনে। খাবারের মানে আমরা কখনো কম্প্রোমাইজ করি নি। ভ্যারিয়েশনের ক্ষেত্রে আমরা চালু করি গরুর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সকল আইটেম দিয়ে দশপদের বিফথালি। গরুর লালভুনা, কালাভুনা, কলিজাভুনা, মগজভুনা, ভুড়িভুনা, ঝুরামাংস, মাংসের আচার, পায়া, নল্লি ও ডালগোশ।
আমাদের বিফথালি এবং গরুর মাংস খাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত অনেকেই আসেন, অনেক দূরদুরান্ত থেকে। অনেকেই আবার অনেক বেশি এক্সপেকটেশন নিয়ে আসেন। আমাদের বাঁশ, কাঠ দিয়ে এসিবিহীন ইন্টেরিয়র দেখে অনেকেই হতাশ হন, সামনের কাঁচা রাস্তাটাও অনেকের হতাশার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের এখানে অনুগ্রহ করে হাই এক্সপেকটেশন নিয়ে আসবেন না। প্রথমত আমরা গরুর ফার্ম, গরুর খামার আমাদের মূল ব্যবসা, এরপর আমাদের বিফওয়ালা। রেস্টুরেন্ট হিসেবে আমরা ভেতরে হলেও গরুর খামারের হিসেবে আমরা আবার অনেক ফ্রন্টে। সেই শিক্ষকের মতো বলতে হয়,
"We are too front for the farm
আমাদের এই বাঁশ, পাটখড়ির ইন্টেরিয়র অনেকের মনোপূত না হলেও অনেকেই আছেন ঢাকার বুকে এই গ্রামীণ পরিবেশের স্বাদ নেয়ার জন্যই এখানে আসেন। বিফওয়ালা সংলগ্ন আহলান এ্যাগ্রোতে প্রচুর সংখ্যক দেশী গরু আছে, দুধের গরু আছে, বাছুর আছে, ঘোড়া আছে, ছাগল আছে, খরগোশ আছে, বেড়াল আছে, কবুতর, ভেড়া, গাড়লও পাইপলাইনে আছে।
আপনার সন্তানকে এসবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য হলেও বিফওয়ালাতে আসতে পারেন। "We are not just a restaurant, we are an experience centre".
চোখ ধাঁধানো আলো, ঝাঁ চকচকে ইন্টেরিয়র, শরীর হীম করে দেয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আমাদের এখানে নেই, কিন্তু আমাদের এখানে হালালভাবে জবাই করা খামারের দেশী গরু থেকে নিজস্ব মসলায় লাকড়ির চুলায় রান্না করা খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন, আপনি ও আপনার নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ঢাকার বুকে পেয়ে যাবেন এক টুকরো গ্রামীণ পরিবেশের আয়োজন।